সোনারগাঁ থানার সাবেক ওসি মোরশেদ আলম ও এসআই সাধন বসাক কারাগারে

প্রকাশিত


পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে করা একটি মামলায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার সাবেক ওসি মোরশেদ আলম ও এসআই সাধন বসাককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আস-শামস্ জগলুল হোসেন এ আদেশ দেন।


জেলা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর আদালতে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে করা একটি মামলার তদন্ত শেষে গত ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত ওসি মোরশেদ আলম ও এসআই সাধন বসাকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে দুই আসামি হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন নেন। গতকাল তারা জজ কোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’

মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁয়ের ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান আলমগীর, স্থানীয় যুবলীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম স্বপন ও বাবুল নামে এক ব্যক্তিকে ২০১৮ সালের ৭ অক্টোবর মধ্যরাতে থানায় নিয়ে নির্যাতন করা হয়। ওই সময় সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছিলেন মোরশেদ আলম ও সেকেন্ড অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন এসআই সাধন বসাক। ওই ঘটনায় ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান আলমগীর ২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর আদালতে ‘নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে’ একটি মামলা করেন। ওই মামলায় তদন্ত শেষে গত ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত ওসি মোরশেদ আলম ও এসআই সাধনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত।


মামলার বাদী ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান আলমগীর বলেন, ‘জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে আমাদের তিনজনকে ওসি মোরশেদ আলম ও এসআই সাধন বসাক বাসা থেকে তুলে থানায় নিয়ে হাত, পা ও চোখ বেঁধে নির্যাতন করেন। এ সময় আমি অচেতন হয়ে পড়লে আমাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেন। আমাদের বাড়ি থেকে তুলে আনা এবং থানায় এনে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের ঘটনার একটি অডিও রেকর্ড আমরা তদন্ত সংস্থার কাছে দাখিল করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌সাবেক ওসি ও এসআই জাহিদুল ইসলাম স্বপনের কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে ক্রসফায়ারে দিয়ে হত্যারও হুমকি দেন তারা। এ ঘটনায় জাহিদুল ইসলাম স্বপন আদালতে এ দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন। আসামিরা আমাকে সাক্ষী না দেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দেন। পরে আমি নিজে বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করি।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মনিরুজ্জামান বুলবুল বলেন, ‘‌আদালত দুই আসামির আইনজীবী ও বাদী পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষ ওসি মোরশেদ আলম ও এসআই সাধন বসাকের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এদিকে এ আদেশের পর পরই আদালত থেকে পুলিশ তড়িঘড়ি করে তাদের কারাগারে নিয়ে যায়।’

আপনার মতামত জানান