ভোরে আর্জেন্টিনার খেলা দেখবেন যেভাবে
অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে কাল আইসল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার অবার্ন শহরের জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। বাংলাদেশ সময় বুধবার (১০ জুন) সকাল ৭টায় ম্যাচটা শুরু হবে।
হন্ডুরাসকে ২-০ গোলে হারিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। ২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপা রক্ষার মিশনে নামার আগে এটিই লিওনেল স্কালোনির দলের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে খেলবে আলবিসেলেস্তেরা। তাই মূল আসরের আগে নিজেদের ছন্দ ও পরিকল্পনা ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে ম্যাচটিকে দেখছে দলটি।
তবে ম্যাচের আগে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে আর্জেন্টিনা শিবিরে। ইনজুরি কাটিয়ে লিওনেল মেসি, নিকো গঞ্জালেস ও নিকো পাজ দলে ফিরেছেন। যদিও মেসি কতক্ষণ খেলবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, ‘মেসি মাঠে থাকবে, তবে সে কত মিনিট খেলবে তা আমি এখনো জানি না। আজকের অনুশীলনে তার সঙ্গে কথা বলব। কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না। পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী সে খেলবে।’
ইন্টার মায়ামির হয়ে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে ম্যাচে বাম হ্যামস্ট্রিংয়ে অস্বস্তি অনুভব করে মাঠ ছাড়েন মেসি। পরে তার পেশিতে ক্লান্তি ধরা পড়ে। সে কারণে হন্ডুরাসের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচেও খেলেননি তিনি। তবে গত ৫ জুন থেকে সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন করছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।
খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে সতর্ক স্কালোনি বলেন, ‘আমরা খেলোয়াড়দের সময় ভাগ করে দেব, যাতে কোনো সমস্যা না হয়। ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ, তবে আমি চাই মৌসুম শেষ হওয়ার আগে সবাই সুস্থ থাকুক।’
স্কালোনি আরও জানান, নিকো পাজ, নাহুয়েল মলিনা ও গনসালো মন্টিয়েলও খেলার জন্য প্রস্তুত। তারা আগে আলাদা অনুশীলন করলেও এখন দলে ফিরেছেন।
জুলিয়ান আলভারেজ ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসের সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে আর্জেন্টিনা কোচ বলেন, ‘আজ আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, খেলোয়াড়রা ভালোভাবে সেরে উঠছে। বেশিরভাগই খেলার অনুমতি পেয়েছে। মন্টিয়েল, মলিনা ও নিকো পাজ প্রস্তুত। আলভারেজও ভালো আছে। তার গোড়ালিতে সামান্য সমস্যা ছিল, সেটি ধীরে ধীরে সেরে উঠছে। পারেদেসও দ্রুত সুস্থ হচ্ছে এবং কয়েক দিনের মধ্যে দলের সঙ্গে অনুশীলনে ফিরবে।’
তবে একটি দুশ্চিন্তা এখনো রয়ে গেছে আর্জেন্টিনা শিবিরে। চোটের কারণে বিশ্বকাপ দল থেকে ছিটকে গেছেন মার্সেইয়ের ডিফেন্ডার লিওনার্দো বালেরদি। তার পরিবর্তে কাকে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
স্কালোনি বলেন, ‘আইসল্যান্ড ম্যাচের পর আমরা বিষয়টি আরও পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারব। বালেরদির জায়গায় একজনকে নেওয়া হবে, তবে অন্য খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।’
আইসল্যান্ড যদিও ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি, তবু দলটি নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ম্যাচটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। কোচ আরনার গুন্নলাউগসনের অধীনে দলটি রক্ষণভিত্তিক ফুটবল ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণের কৌশলে খেলছে।
দুই দলের ইতিহাসও বেশ আকর্ষণীয়। এখন পর্যন্ত মাত্র একবার মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও আইসল্যান্ড। ২০১৮ বিশ্বকাপে আইসল্যান্ড নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই আর্জেন্টিনাকে ১-১ গোলে রুখে দিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে।
বর্তমান ফর্ম অবশ্য আর্জেন্টিনার পক্ষেই কথা বলছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচ জিতেছে স্কালোনির দল। অন্যদিকে আইসল্যান্ডের শেষ পাঁচ ম্যাচে কোনো জয় নেই। তারা দুটি ড্র ও তিনটি হার দেখেছে।
আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে নজর থাকবে লাওতারো মার্টিনেজের দিকে। ইন্টার মিলানের এই ফরোয়ার্ড ২০২৪ কোপা আমেরিকায় সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন। হন্ডুরাসের বিপক্ষেও গোল করে নিজের ফর্মের জানান দিয়েছেন তিনি।
আইসল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ভরসা আলবার্ট গুডমুন্ডসন। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে চার গোল করে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন এই ফরোয়ার্ড। আক্রমণভাগে তার গতিময়তা ও জায়গা তৈরি করার দক্ষতা আইসল্যান্ডের প্রধান অস্ত্র।
সম্ভাব্য একাদশে আর্জেন্টিনা ৪-৩-৩ ছকে খেলতে পারে। গোলপোস্টে থাকবেন রুলি। রক্ষণে কাপালদো, নিকোলাস ওতামেন্দি, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও এনজো ফার্নান্দেজ। আক্রমণে দেখা যেতে পারে লিওনেল মেসি, লাওতারো মার্টিনেজ ও নিকো গঞ্জালেসকে।
আইসল্যান্ড ৫-৪-১ ছকে খেলতে পারে। গোলপোস্টে থাকবেন ভালডিমারসন। সামনে থাকবেন দলের প্রধান ভরসা আলবার্ট গুডমুন্ডসন।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৮ সালের মতো চমক দেখানো এবার আইসল্যান্ডের জন্য কঠিন হবে। ইনজুরি সমস্যা কাটিয়ে প্রায় পূর্ণশক্তির দল নিয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। তাই ম্যাচটিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদেরই এগিয়ে রাখছেন সবাই।
ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে ইএসপিএন ও ইএসপিএন ডিপোর্তেস। এছাড়া ওয়াচ ইএসপিএন, ফুবো টিভি, স্লিং টিভি, ফানাতিজ ও ভিক্স প্ল্যাটফর্মেও ম্যাচটি দেখা যাবে।


আপনার মতামত জানান