সোনারগাঁয়ে স্কুলছাত্রীকে লাথি, আটক কিশোরকে পরিবারে হস্তান্তর

প্রকাশিত

 

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক স্কুল শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত ও লাথি মারার অভিযোগে আটক কিশোর দিলশাদকে শর্ত সাপেক্ষে রাত ৯ টার পর তার মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করেছে সোনারগাঁ থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি সোনারগাঁ থানাকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে তার মা-বাবার সহযোগীতায় রংপুর থেকে আটক করা হয়। বয়স কম হওয়ায় এবং কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় তাকে ছয় মাসের জন্য সমাজসেবা কর্মকর্তার নজরদারিতে কাউন্সেলিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে কাঁচপুর রায়েরটেক এলাকার একটি বাড়ির ভাড়াটিয়া।

নারায়ণগঞ্জ জেলা সমাজসেবা বিভাগের প্রবেশন অফিসার নূর ফারজানা জানান, আগামী ছয় মাস প্রবেশন অফিসারের তত্ত্বাবধানে দিলশাদের নিয়মিত কাউন্সেলিং চলবে। এ সময়ে কিশোরকে বাবা-মাসহ প্রতিমাসে দুই-তিনবার হাজিরা দিতে হবে।

জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল ওই ভিডিওটির ভুক্তভোগী সোনারগাঁর কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় নিযার্তনের শিকার ওই শিক্ষার্থীকে টিসি দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ দিকে স্কুল ছাত্রীকে টিসি দেওয়ার জেরে স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

তবে ওই শিক্ষার্থীদের টিসি দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন সরকার। তিনি জানিয়েছেন, দুই শিক্ষার্থী বিভিন্ন সময়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে বাইরে অবস্থান করে। তাদের পরিবারকে সন্তানরা ভবিষ্যতে এমন করলে চিঠির মাধ্যমে টিসি দেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

অভিযুক্ত সাড়ে ১১ বছর বয়সী দিলসাদ হোসেন কাঁচপুর রায়েরটেক এলাকার লিটন খানের বাড়ির ভাড়াটিয়া। তার বাবা সাফিউল ইসলাম পেশায় রিকশাচালক ও মা মোছাম্মদ দুলালী গার্মেন্টকর্মী।

নির্যাতনের শিকার স্কুল ছাত্রীর বাবা কাঁচপুরের একটি গার্মেন্টে কাজ করেন। তার মা হাজেরা বেগম অসুস্থ।

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক ( তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “অভিযুক্ত কিশোরকে রংপুর থেকে আটক করা হয়েছে। বয়স কম হওয়ায় এবং কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় তাকে ছয় মাসের জন্য সমাজসেবা কর্মকর্তার নজরদারিতে কাউন্সেলিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে কিশোরকে বাবা-মাসহ প্রতিমাসে দুই-তিনবার হাজিরা দিতে হবে।

আপনার মতামত জানান