কুমিল্লার মৈশারচরের বাড়িঘরে হামলা, আতঙ্কিত ভুক্তভোগীরা।
বিশেষ প্রতিনিধি :
কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই সব শেষ হয়ে যায় আব্দুল ছালামের জীবনের সব সঞ্চয়। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় তাঁর কয়েক কোটি টাকার বাড়িগাড়ি, ভিটেমাটি লুট করা হয় কয়েক কোটি টাকার স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা। ঘটনাটি ঘটে গত ২০ এপ্রিল কুমিল্লা জেলার মেঘনা উপজেলার মৈশারচর গ্রামের আওয়ামীলীগের আব্দুল লতিফ সরকার ও মনা মেম্বারের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জনের একটি সশস্ত্র বাহিনী হামলা চালায় মৃত তজুমদ্দিন বেপারীর ছেলে বিএনপি নেতা আঃ ছালামের বাড়িতে। আসামীরা এখনো অধরা থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগীরা। জানা যায়, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরোধকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষ এবং বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটেছে।
গত মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং পুড়ে যাওয়া বাড়িঘর পরিদর্শনে গিয়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন, মৈশারচর গ্রামের এই নারকীয় হামলার বীভৎস দৃশ্য দেখেছি। যা এতোটাই নির্মম যেখানে মানবিক মূল্যবোধ ভূলুন্ঠিত। অপরাধী যেই হোক, তার কোনো ছাড় নেই। সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী সন্ত্রাসীদের দমন করতে বর্তমান সরকারের নীতিগত অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। নিরীহ মানুষের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। জনমনে ভীতি সঞ্চার করার যে কোনো অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না, শাস্তি তাকে পেতেই হবে।
সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, গত ২০ এপ্রিল- আব্দুল লতিফ সরকার ও মনা মেম্বার (৪১) মেম্বারের নেতৃত্বে ওয়াজ উদ্দিন তার ছেলে মামুন চেরাগ আলীর ছেলে মানিক, তার ছেলে আরিফ সাদ্দাম, মোঃ আল আমিন, ছগির, আনার, জাহাঙ্গীর আলম, সমর আলী, বাবু, সজল, মহি উদ্দিন, হৃদয়, রবের ছেলে হৃদয়, আমির, শামীম, আল আমিন, মামুন, বশির, ইছহাক মিয়া, নুর ইসলাম, মোমেলা বেগম, ফসরা বেগম, সুলতান, পারুল বেগম, মিনারা বেগম, শহীদ, জোসনা, পারভেজ, মাসুম, রাশিদ বেপারী, সোহরাব, সুমন শাহ পরান, হামিদ, সামুদ্দীন, হাবি উল্লাহ সহ অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১৫ জন একটি সন্ত্রাসী দল দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র, কিরিচ, টেটা, চাইনিজ কুড়াল, রামদা, হকিস্টিক, লোহার রড, লোহার শাবল, লাঠি-সোঠা নিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। হামলায় ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মালামাল সহ প্রায় ৪ কোটি লুট করে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে ৪১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত নামা আরো ১৫ জনের বিরুদ্ধে মেঘনা থানায় মামলা করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট ন্যাহ্য বিচার দাবী করেন এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রত্যাশা করেন।


আপনার মতামত জানান