সালমা আক্তার কাজল: প্রতিকূলতায় অবিচল এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব

প্রকাশিত

 

বিশেষ প্রতিনিধি:

জনীতির মাঠে টিকে থাকা এবং আদর্শের পথে অটল থাকা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং, বিশেষ করে যখন পরিস্থিতি প্রতিকূল হয়। এই প্রতিকূলতার মধ্যেও যারা নিজের রাজনৈতিক অবস্থান এবং সততা বজায় রাখেন, তারা দলের জন্য সম্পদ হয়ে ওঠেন। বিএনপি নেতা সালমা আক্তার কাজলকে দলের তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যারা চেনেন, তাদের অনেকের কাছেই তিনি একজন পরিশ্রমী ও নির্ভীক কর্মী হিসেবে পরিচিত। সালমা আক্তার কাজল বিএনপির দুর্দিনেও দলের প্রতি আনুগত্য এবং সক্রিয়তা বজায় রেখে নিজের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছেন। দলীয় আদর্শের প্রশ্নে তিনি আপসহীন—এমনটাই তার সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দাবি।
সালমা আক্তার কাজল তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ব্যক্তিগত সততা এবং দলের প্রতি দায়বদ্ধতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। বিশেষ করে দলের সংকটময় মুহূর্তগুলোতে তিনি রাজপথে যেভাবে সরব থেকেছেন, তা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

সোনারগাঁয়ের চৌধুরীরগাঁও গ্রামের এক উঠান। বিকেলের রোদে পাটি পেতে বসেছেন দুই শতাধিক নারী। সামনে দাঁড়িয়ে মাইক্রোফোন হাতে এক নারী কথা বলছেন গণতন্ত্র, ভোটাধিকার আর ৩১ দফা নিয়ে। এই নারীই সালমা আক্তার কাজল – সোনারগাঁ উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী তিনি। “দুঃসময়ের নির্ভীক সৈনিক” হিসেবে স্থানীয় বিএনপির কর্মীরা তাকে এক নামেই চেনেন।

সেই উঠান বৈঠকে তিনি বলেছিলেন, “দলের কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে আমরা অনেকেই নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছি। আমি নিজেও গুরুতর আহত হয়েছিলাম, আজও সেই ব্যথা বয়ে চলেছি”।

মামলা, হুমকি, সামাজিক চাপ – সবকিছু পেরিয়েও তিনি মাঠ ছাড়েননি। উল্টো জুলাই আন্দোলনের পর দল যখন পুনর্গঠনের পথে, তখন তিনিই নারীদের সংগঠিত করার অগ্রভাগে।

সালমা আক্তার কাজলের রাজনীতিতে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কাদা ছোড়াছুড়ি নেই। তার বক্তব্যের কেন্দ্রে তিনটি শব্দ – অধিকার, আদর্শ, ঐক্য।

তিনি বলেন, বিএনপি “জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনার মহান উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে”। শহীদ জিয়ার আদর্শ, বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ আর তারেক রহমানের রূপরেখাকে তিনি তরুণ-নারীদের সামনে তুলে ধরছেন।

জনপ্রিয় এবং কার্যকর রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার, মামলা বা নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরির অভিযোগ শোনা যায়। সালমা আক্তার কাজলের ক্ষেত্রেও তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা নানা সময় ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে এবং চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব বাধা তাকে দমানোর পরিবর্তে বরং রাজনৈতিকভাবে আরও পরিপক্ক ও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করেন তার সমর্থকরা। তার বিরুদ্বে নব্য বিএনপির কিছু বিপদগামী কর্মী মিথ্যা, বানোয়াট অপপ্রচার চালাচ্ছে যা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপির আদর্শিক নেতাকর্মীরা।
প্রতিকূলতা জয়ের পথ
একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে সালমা আক্তার কাজল যে দলের চরম দুঃসময়েও তিনি পিছপা হননি। তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল ও অনুগত থেকেছেন এবং স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে দলের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত তিনি সুসম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করে চলেছেন। তবে ষড়যন্ত্র বা হুমকিকে উপেক্ষা করে রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে তিনি অটল।

সালমক আক্তার বলেন, রাজনীতি কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং আদর্শের লড়াই। আমি সেই লড়াইয়ের একজন নিবেদিতপ্রাণ সৈনিক। আমার বিরুদ্ধে থাকা ষড়যন্ত্রগুলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন অনেকে। প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে নিজের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি বজায় রেখে কাজ করে যাব ইনশাল্লাহ।

তিনি আরো বলেন, রাজনীতি অনেকের কাছে ক্ষমতার খেলা। আমার কাছে তা লড়াই – অধিকারের লড়াই। আঘাত পেয়েছি, ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হয়েছি, তবুও পিছু হটিনি। যারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারে মেতে উঠেছে আমি তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং আমি চ্যালেঞ্জ করছি যদি একটি অভিযোগও সত্য প্রমান করতে পারে তাহলে আমি স্বেচ্ছায় রাজনীতি ছেড়ে দেব এবং যেকোন শাস্তি মাথা পেতে নেবো।

আপনার মতামত জানান