লাখ টাকার চুক্তিতে যুবককে খুন

প্রকাশিত

অটোরিকশা চালককে হত্যার দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা। ছবি: আজকের পত্রিকা গাজীপুরে নিজের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করার কারণে এক অটোরিকশা চালককে লাখ টাকার চুক্তিতে হত্যা করান যুবক। এই হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহের মধ্যে রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজন হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

নিহত শরিফুল ইসলাম (২০) গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন বনখড়িয়া গ্রামের মৃত নায়েব আলীর ছেলে।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলো, নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার হিজুলিয়া গ্রামের আ. রশিদের ছেলে শফিকুল ইসলাম (২৫), শ্রীপুর উপজেলার বনখড়িয়া গ্রামের মো. আমজাদ হোসেনের ছেলে অফ্রিদি (১৯), জেলার জয়দেবপুর থানা এলাকার বাউপাড়া গ্রামের মো. নিয়ত আলীর ছেলে মো. রাকিব হোসেন (২২), জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানা এলাকার দর্জিপাড়া গ্রামের মো. হাসানের ছেলে, ভাওয়াল মির্জাপুর এলাকার ইব্রাহিম মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. রাজিব শেখ (২২), ময়মনসিংহ জেলার গৌরিপুর থানার মিছিটেঙ্গী গ্রামের মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে, গাজীপুর মহানগরের সদর থানার শিকদার বাড়ি ভিমবাজার এলাকার জুয়েল রানা (২৭) ও গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বনখড়িয়া উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত শাজাহ উদ্দিনের ছেলে মো. হানিফ (২৭)।

আজ শনিবার নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন মামলার তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা ও পিবিআই গাজীপুর ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান।

তিনি জানান, গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার বনখড়িয়া গ্রামের মৃত নায়েব আলীর ছেলে শরিফুল ভাড়ায় অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ৯ ডিসেম্বর সকালে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় শরিফুল। ওই দিন বিকেলে বনখড়িয়া বাজার থেকে রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট বিপসট গেট সড়কে চালকবিহীন অটোরিকশাটি দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে অটোরিকশার পেছনে থাকা মোবাইল নম্বরে ফোন করে বিষয়টি মালিক মোশারফ হোসেনকে জানান রোমান হোসেন নামের এক ব্যক্তি। এরপর দিন গত ১০ ডিসেম্বর সকালে অটোরিকশা উদ্ধারের জায়গা থেকে সামান্য দূরে গজারি বনের ভেতর শরিফুল ইসলামের গলাকাটা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে শ্রীপুর থানা-পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. সেকান্দার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান জানান, শরিফুল ঘটনার ১০/১২ দিন আগে জেলার জয়দেবপুর থানার এলাকার ভাওয়াল মির্জাপুর গ্রামের মঞ্জুরুল ইসলামের মেয়ে কারিমাকে (১৭) পরিবারের অমতে গোপনে বিয়ে করেন। অবশ্য পরে উভয় পরিবার তাঁদের বিয়ে মেনে নেয়। গত ১০ ডিসেম্বর (হত্যাকাণ্ডের পরের দিন) কারিমাকে পারিবারিকভাবে অনুষ্ঠান করে শরিফুলের ঘরে তুলে নেওয়ার কথা ছিল।

কারিমার বড় ভাই খোরশেদ আলমের শ্যালক রাজিব শেখ কারিমাকে পছন্দ করতেন। পারিবারিকভাবে তাঁর সঙ্গেই বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। এ ছাড়া কারিমার বড় দুই বোনের স্বামী রাকিব হোসেন ও জুয়েল রানাসহ পরিবারের সদস্যরা শরিফুলের সঙ্গে কারিমার বিয়ে মেনে নেননি। তাঁরা শরিফুলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আছমত ওরফে তারেকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে হত্যার জন্য ১ লাখ টাকায় চুক্তি করেন।

চুক্তি মোতাবেক শরিফুলকে সিগারেট খাওয়ানোর কথা বলে আছমত বনখড়িয়া বাজার থেকে রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট বিপসট গেট সড়কের মাঝামাঝি গজারি বনের ভেতর নির্জন জায়গায় নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে আছমতসহ আরও তিনজন সিগারেট ও গাঁজা সেবন করার একপর্যায়ে শরিফুলকে চেপে ধরে মাটিতে ফেলে প্রথমে গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করেন ও পরে গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত করেন।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত আলামত ও প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে আসামি শফিকুল ইসলাম, মো. হানিফ ও আফ্রিদিকে শুক্রবার রাতে উপজেলার বন খড়িয়া গ্রাম থেকে ও রাকিব হোসেন, রাজিব শেখ, মো. জুয়েল রানাকে গত বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরের ভাওয়াল মির্জাপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।

তাঁদের মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত আসামি আফ্রিদি ও শফিকুলকে আদালতে উপস্থাপন করা হলে তাঁরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। অপর আসামি রাকিব হোসেন, রাজিব শেখ, জুয়েল রানা ও হানিফকে গ্রেপ্তার করে আদালতে উপস্থাপন করা হলে আদালত তাঁদের তিন দিনের রিমান্ড-মঞ্জুর করেন।

আপনার মতামত জানান