তিতুমীরের অধ্যক্ষ আমাদের তালাত আপা

প্রকাশিত

খুজিস্তা নূর-ই–নাহারিন (মুন্নি)


শরতের ভেলায় ভেসে
এলো হেমন্তিকা
সম্পর্কিত খবর
শিউলির ডালায় আরতি হয়ে
চোখ মেললো দীপালীর দীপশিখা—

আজকের তিতুমীর যেনো এক টুকরো শরত আকাশের সাজে সেজেছিলো। বাহারী সবুজের শাড়িতে আর নারীতে একাকার ক্যাম্পাসের সবুজ সতেজ আঙিনা। তারুণ্যের প্রতীক হিসেবে সবুজ হয়ে উঠেছিলো অভাবিত বিভাময়। হৃদয় ছুঁয়েছে কাশবনের মৃদু মোলায়েম ঘনবনের সৌরভেও। প্রকৃতির রূপ রঙ শরত হেমন্তেই তার পরিপূর্ণ মাধুর্য নিয়ে সহজিয়া মানব মনের অলিন্দে অলিন্দে আপন মনে খেলা করে। সেইসাথে যুক্ত হয়েছে আরেক নতুন মাত্রা। নতুন অধ্যক্ষ ম্যাডাম প্রফেসর তালাত সুলতানা এর সংবর্ধনা এবং নব নির্বাচিত শিক্ষক পরিষদের আনুষ্ঠানিক অভিষেক অনুষ্ঠান। সোনায় সোহাগা।

অভিনন্দন প্রফেসর তালাত সুলতানা আপাকে। একই কলেজে সহযোগী অধ্যাপক, বিভাগীয় প্রধানের ধারাবাহিকতায় উপাধ্যক্ষ পদে পদায়ন এবং প্রশাসনের সর্বোচ্চ ‘অধ্যক্ষ’পদটি অলংকৃতকরণের মাধ্যমে পরিপূর্ণতার স্বাদাস্বাদন এক বিরল সৌভাগ্য বলতে হবে। আজকের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সকলের বক্তব্যেই উঠে এসেছে, ‘আমাদের তালাত আপা কথাটি।’ অধ্যক্ষ তো বটেই তবুও একটা দাবি, একটা আস্থা আর ভরসার জায়গা আপনি । দীর্ঘদিনের চেনা আপনি তাই সবার স্বজন হওয়ার জায়গাটি করে নিতে পেরেছেন অবলীলায়। আপনার বক্তব্যে উঠে এসেছে সহকর্মীদের এই দীর্ঘ সাহচার্য, একসাথে পথচলা আপনাকে আমাদের ভাষা বুঝতে সহায়তা করবে; আপনি সকলের মনের ভাষা, মুখের ভাষা পড়তে পারেন যা সকলের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে সাহায্য করবে। বিনয় আপনার অলংকার তবে সেটা আত্মমর্যাদাবোধে উদ্দীপ্ত। সততা, নিষ্ঠা ও সময়জ্ঞানে আপনার জুড়ি নেই যেটি দর্শন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর নাছিমা আক্তার চৌধুরী বলেছেন। গানের মানুষ আপনি। স্বনামধন্য রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী আপনি। শিল্পের সাধনা আপনার পারিবারিক ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ। বনেদি বংশের উত্তরাধিকারী- আজন্ম একজন জাত শিল্পী হিসেবে অনেক প্রসারিত মন মননের অধিকারী। আদ্যোপান্ত প্রশাসনের মানুষ না হয়েও নতুন পদায়নপ্রাপ্ত (অধ্যক্ষ) পদে এবং অব্যাহতি পূর্বে উপাধ্যক্ষ পদসহ আপনার একাগ্রতা, বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা আর ভালোবাসার সমন্বয় ঘটিয়ে প্রশাসনিক কাজ যেভাবে সুচারুরুপে সম্পন্ন করে চলেছেন সেটি আমাদের অবাক করে বৈকি। সাথে সাথে আমরা আনন্দিতও হই। গৌরবান্বিতও বোধ করি। কর্মদক্ষতায় – নৈপুণ্যে আপনি আপনার যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। এ ধারা অব্যাহত থাকুক।

আজকেও আপনি দৃঢ়তার সাথে উচ্চারণ করেছেন, সহকর্মীদের বিভিন্ন দাবি দাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক বিষয়াদি এবং তাদের মন-মনন গঠনে, নৈতিকতা অর্জনে জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা। সে লক্ষ্য অর্জনে আপনার পাশে আমরা অবশ্যই সবসময় থাকবো; পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবো ইনশাল্লাহ আপা।

আপনার সততায়-সাহসিকতায়, মানসিক দৃঢ়তায়, মানবিকতায় আমাদের তিতুমীর পরিবার শিক্ষাঙ্গনে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে আসীন হবে এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা। কলেজের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দের কাছে আপনার গ্রহণযোগ্যতা বিশ্বস্ততা প্রশ্নাতীত। আপনার সর্বঙ্গীন মঙ্গল কামনা করছি প্রিয় আপা।

২৩ তম শিক্ষক পরিষদকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানাচ্ছি। একঝাঁক উচ্ছ্বল তরুণ তরুণীদের সমন্বিত উদ্যোগে গঠিত পরিষদ আজকের মতো আরও সফল আরও সাফল্যমন্ডিত হোক। আমাদের পরিষদ হোক সার্বজনীন সৌন্দর্যের সৌকর্যের কেন্দ্রবিন্দু।

শিক্ষক আর শিক্ষাই হোক সর্বপ্রকার অচলায়তনের বিরুদ্ধে আলোকের ঝর্ণাধারা।


লেখক: অধ্যাপক মালেকা আক্তার চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, শিক্ষক পরিষদ; সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা।

আপনার মতামত জানান