কিয়ামতের দিন যেসব ধনী শাস্তির সম্মুখীন হবে

প্রকাশিত



ধন-সম্পদ মহান আল্লাহর নিয়ামত। এটি হালাল পদ্ধতিতে অর্জন করলে এবং আল্লাহর নির্দেশিত পদ্ধতিতে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় ব্যয় করলে এটি জান্নাতের সোপান হতে পারে। কিন্তু কেউ যদি তা অর্জনে এতটাই বেপরোয়া হয়ে ওঠে যে সে আল্লাহকেই ভুলে যায়, হালাল-হারামের পার্থক্য করে না, সম্পদের নেশায় জুলুম-অত্যাচারে লিপ্ত হয়ে যায়, তাহলে তা সম্পদের মালিককে জাহান্নামের দিকে টেনে নিয়ে যাবে। তাদের পরম যত্নে আগলে রাখা ধন-সম্পদ দিয়েই তাদের কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে। যেই প্রাচুর্যের জন্য যারা মহান আল্লাহর আদেশ-নিষেধের তোয়াক্কা পর্যন্ত করেনি, সেই প্রাচুর্য হারিয়ে তারা নিঃস্ব হয়ে যাবে। কিয়ামতের দিন কিছু ধনী মানুষ একেবারে নিঃস্ব হয়ে উঠবে। তারা হলো—

জাকাত না দিয়ে সম্পদ জমা করা : যারা আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদ পেয়ে তাঁর শুকরিয়া আদায় করেনি, সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করেনি, কিয়ামতের দিন তাদের অবস্থা হবে ভয়াবহ। পবিত্র কোরআনে তাদের শাস্তির বর্ণনা দিতে গিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জীভূত করে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, আপনি তাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন। যেদিন জাহান্নামের আগুনে সেগুলো উত্তপ্ত করা হবে এবং সেসব দিয়ে তাদের কপাল, পাঁজর আর পিঠে দাগ দেওয়া হবে, বলা হবে, এগুলোই তা যা তোমরা নিজেদের জন্য পুঞ্জীভূত করতে। কাজেই তোমরা যা পুঞ্জীভূত করেছিলে তার স্বাদ ভোগ করো।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৩৪-৩৫)

অনাহারীদের অন্ন না দেওয়া : ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো অনাহারীর আহারের ব্যবস্থা করা। যারা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তা থেকে বিরত থাকবে, কিয়ামতের দিন তারা কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘কিন্তু যার আমলনামা তার বাঁ হাতে দেওয়া হবে, সে বলবে, হায়! আমাকে যদি দেওয়াই না হতো আমার আমলনামা, আর আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব। হায়! আমার মৃত্যুই যদি আমার শেষ হতো। আমার ধন-সম্পদ আমার কোনো কাজেই এলো না। আমার ক্ষমতাও বিনষ্ট হয়েছে। ফেরেশতাদের বলা হবে, ধরো তাকে, তার গলায় বেড়ি পরিয়ে দাও। তারপর তোমরা তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করিয়ে দগ্ধ করো। তারপর তাকে শৃঙ্খলিত করো এমন এক শিকলে, যার দৈর্ঘ্য হবে ৭০ হাত, নিশ্চয়ই সে মহান আল্লাহর প্রতি ঈমানদার ছিল না, আর মিসকিনকে অন্নদানে উৎসাহী করত না।’ (সুরা : হাক্কাহ, আয়াত : ২৫-৩৪)

কৃপণতা করা : যেসব কারণে মানুষের ধ্বংস অবধারিত, তার মধ্যে কৃপণতা অন্যতম। এটি বরকত উঠিয়ে নেয়। মহান আল্লাহ কৃপণদের ওপর ভীষণ রাগান্বিত হন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর কেউ কার্পণ্য করলে এবং নিজেরা অমুখাপেক্ষী মনে করলে আর যা উত্তম তাতে মিথ্যারোপ করলে তার জন্য আমরা সুগম করে দেব কঠোর পথ। আর তার সম্পদ তার কোনো কাজে আসবে না, যখন সে ধ্বংস হবে।’ (সুরা : লাইল, আয়াত : ৮-১১)

অশ্লীল কাজে অর্থায়ন করা : যে কাজ করতে গেলে অর্থের প্রয়োজন হয়, তাই যারা ভালো কাজের উদ্যোগ নেয়, তারা যেমন ধনীদের দ্বারস্থ হয়, তেমনি যারা মন্দ কাজ করে, তারাও ধনীদের দ্বারস্থ হয়। অশ্লীল ও গুনাহর কাজে অর্থায়ন করা যেকোনো মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদের কারণ। পাপে সহযোগিতা করার কারণে তাদেরও পাপীদের সমপরিমাণ পাপ বহন করতে হবে এবং মহান আল্লাহর কঠিন আজাবের সম্মুখীন হতে হবে। এ ব্যাপারে সতর্ক করে মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর আল্লাহ জানেন তোমরা জানো না। (সুরা : নুর, আয়াত : ১৯)

সুদ খাওয়া : সুদ ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্যতম অপরাধ। একে ব্যভিচারের চেয়েও নিকৃষ্ট পাপ মনে করা হয়। কিয়ামতের দিন সুদখোরদের কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা সুদ খায় তারা (কিয়ামতের দিন) তার মতো দাঁড়াবে, যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা পাগল করে।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৭৫)

এ ছাড়া বিভিন্ন আয়াত ও হাদিসে যারা অবৈধ উপায়ে উপার্জন করে এবং গুনাহর কাজে ব্যয় করে, কিয়ামতের দিন তাদের দুর্ভোগের বিষয়ে বহু হুঁশিয়ারি রয়েছে।

আপনার মতামত জানান