আমি জাতীয় পার্টির কাছে কৃতজ্ঞ: কাদের

প্রকাশিত

১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির (জাপা) সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করছিল বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সাল থেকে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগের মিত্রতা শুরু হয়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেদিন আমাদের রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে জাতীয় পার্টির একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ওই সময় আমাদের সরকার গঠন করার জন্য কিছু আসন কম ছিল। জেলে বসেও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আমাদের সমর্থন দিয়েছিলেন। আমরা সরকার গঠন করতে পেরেছিলাম। ৯৬ সালে জাতীয় পার্টির অবদানের কথা আমরা ভুলিনি। আমি জাতীয় পার্টির কাছে কৃতজ্ঞ।’

জাতীয় পার্টির নবম সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে ওয়াদুল কাদের এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বাংলাদেশে পল্লিবন্ধু নামে খ্যাত। তিনি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন, ভালোবাসতেন। তিনি একজন বিনয়ী রাজনীতিক ছিলেন। জাতীয় পার্টি এবং এইচএম এরশাদ একই বৃন্তে দুটি ফুলের মতো।’

সারাদেশে জাতীয় পার্টির অনেক কর্মী রয়েছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এরশাদ বেঁচে থাকলে আজ পরিবেশ আরও ভিন্নমাত্রা পেতো। আজ জাতীয় পার্টির জাতীয় সম্মেলনে তার স্মৃতি বারবার মনে পড়ছে। জাতীয় পার্টি বিরোধী দলে আসার পর সংসদের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা এসেছে। তারা সংসদের ভেতরে ও বাইরে কখনও ভায়োলেন্সের রাজনীতি করেনি। সংসদে জাতীয় পার্টি দায়িত্বশীল, গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করেছে।’

কাদের বলেন, ‘গণতন্ত্রে সরকারি দল একা শক্তিশালী হলে হবে না। গণতন্ত্রকে অর্থবহ করতে হলে শক্তিশালী বিরোধী দল প্রয়োজন। জাতীয় পার্টি এ ভূমিকাটি যথাযথভাবে এ পর্যন্ত পালন করে আসছে।’

শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে সম্মেলনের সভাপত্বি করেছেন জিএম কাদের। শুরুতে এরশাদের জন্য দোয়া পরিচালনা করেন কারী হাবিবুল্লাহ বেলাল। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ফয়সাল চিশতি।

এবারের সম্মেলনে সর্বসম্মতভাবে পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বেগম রওশন এরশাদকে দলের আমৃত্যু প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং জিএম কাদেরকে চেয়ার করার সিদ্ধান্ত পাস করা হয়েছে।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কাজী ফিরোজ রশিদ, মশিউর রহমান রাঙ্গা, রুহুল আমিন হাওলাদার, লিয়াকত হোসেন খোকাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলের নেতা রওশন এরশাদকে জাতীয় পার্টিতে সর্বোচ্চ সম্মানিত পদে অধিষ্ঠিত করা হচ্ছে। তিনি যতদিন বেঁচে থাকবেন দলের এ পদে এককভাবে অধিষ্ঠিত থাকবেন, তার মৃত্যুর পরে পদটি আর কেউ ব্যবহার করতে পারবেন না, বিলুপ্ত হয়ে যাবে। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তিনিই হবেন দলের শীর্ষনেতা। দলের যেকোনো পাবলিক মিটিংয়ে চেয়ারম‌্যানের উপরের মর্যাদা ভোগ করবেন তিনি। এছাড়া দলীয় পতাকা একমাত্র তার গাড়িতেই থাকবে। জাতীয় পার্টিতে এমন একটি নতুন পদ সৃষ্টি করে শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) গঠনতন্ত্র অনুমোদন দিয়েছে দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম।

 

আপনার মতামত জানান