নির্বাচন কি কেবলই ক্ষমতার খেলা❓
নির্বাচন কি কেবলই ক্ষমতার খেলা, নাকি মানুষের ভাগ্য বদলের হাতিয়ার?
গাজী মোবারক:
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এই প্রশ্নটি আমাদের নিজেদের খুব গভীরভাবে করা প্রয়োজন। আমরা প্রায়শই অভিযোগ করি—রাজনীতিতে সুশাসনের অভাব, জবাবদিহিতার অভাব। কিন্তু একটু ঠাণ্ডা মাথায় ভাবলে বুঝবেন, এই অভাবগুলোর মূলে রয়েছে রাজনীতিতে প্রকৃত শিক্ষিত, দূরদর্শী এবং মানবিকতাসম্পন্ন মানুষের তীব্র সংকট।
বিশ্বের যেকোনো উন্নত বা উন্নয়নশীল দেশের দিকে তাকালে দেখা যায়, যে রাষ্ট্রগুলো দ্রুত সংকটের মুখোমুখি হয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তাদের নেতৃত্বে ছিলেন উচ্চশিক্ষিত এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা। শিক্ষা মানুষকে কেবল ডিগ্রি দেয় না, বরং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দূরদর্শিতা এবং নীতিবোধ শেখায়। অন্যদিকে, মানবিকতা না থাকলে সেই শিক্ষা হয়ে ওঠে কেবলই চতুরতা। যখন রাজনীতিতে এই দুটি গুণের সমন্বয় ঘটে না, তখন সেখানে জন্ম নেয় দুর্নীতি, পেশিশক্তি এবং চরম জনবিচ্ছিন্নতা।
কেন আমাদের শিক্ষিত ও মানবিক মানুষ প্রয়োজন?
✅ নীতি নির্ধারণে দক্ষতা:
আধুনিক বিশ্বের অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো জটিল বিষয়গুলো বুঝতে এবং সঠিক পলিসি তৈরি করতে উচ্চশিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
✅ সহমর্মিতা ও জবাবদিহিতা:
একজন মানবিক হৃদয়ের মানুষ সাধারণ মানুষের কষ্ট নিজের মনে করতে পারেন। তিনি ক্ষমতার দাপট দেখানোর চেয়ে জনগণের সেবা করাকে নিজের পরম দায়িত্ব মনে করেন।
✅ ন্যায্য বিচার ও সাম্য:
শিক্ষিত সমাজ বোঝে আইনের শাসন কী। তারা আইনের অপপ্রয়োগ না করে একটি সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে কাজ করে।
✅ এখনই সময় তরুণদের এগিয়ে আসার:
আমরা আর কতদিন যোগ্য মানুষের অভাবের দোহাই দিয়ে নির্বাচন থেকে দূরে থাকব? যদি ভালো এবং সৎ মানুষেরা রাজনীতিকে ‘কাদা ছিটানোর জায়গা’ ভেবে এড়িয়ে চলেন, তবে সেই শূন্যস্থান এমন মানুষদের দ্বারাই পূর্ণ হবে যারা সমাজকে আরও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবে।
আসুন, আমরা কেবল সমালোচক না হয়ে পরিবর্তনের অংশ হই। রাজনীতিতে মেধা, সততা এবং মানবিকতার জয়গান গাইতে শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ দিনশেষে, যোগ্য মানুষের নীরবতা অযোগ্যদের আস্কারা দেওয়ার শামিল।
রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে সৎ ও ভালো মানুষদের দূরে সরে যাওয়া একটি দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সংকট। এর পেছনে মূলত অর্থশক্তির দৌরাত্ম্য, পেশীশক্তি, নীতিহীনতা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশের অভাব প্রধান ভূমিকা পালন করে। সজ্জন, বিদ্যান ও মানবিক মানুষ নির্বাচনে না আসায় মন্দের ভালো খুঁজে ভোট দিতে বাধ্য হয় ভোটাররা। যদি ভালো মানুষের সাথে ভালো মানুষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতো তাহলে খুঁজে নিতো ভালোর ভালোকে। শত হতাশার মাঝে পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে কিছুটা আলোর আভা নিয়ে হাজির হচ্ছেন একজন।
তিনি শাহাদাৎ হোসেন লিটু। সাবেক চেয়ারম্যান আবু হোসেন চৌধুরীর ছেলে। আসন্ন সোনারগাঁ পৌরসভা নির্বাচনে তিনি নিজেকে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়ে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে আছেন। যদিও নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক হয়নি তবুও এখন থেকেই নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে।
সদা হাস্যোজ্জল মানবিক মানুষ শাহাদাৎ হোসেন লিটু পারিবারিক শিক্ষা থেকেই সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন।
শাহাদাৎ হোসেন লিটুর মতো বিনয়ী, মার্জিত, সুশিক্ষিত পরিচ্ছন্ন ইমেজের তরুণরা জনপ্রতিনিধি হয়ে ঘুণেধরা সমাজের হাল ধরুক এ প্রত্যাশা সকলের।


আপনার মতামত জানান