হেফাজতের আগুনে পুড়ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গাড়ি

প্রকাশিত



নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে হরতালের সমর্থনকারীরা তিনটি ট্রাক, একটি মাইক্রোবাস ও তিনটি মিনিবাসে আগুন দিয়েছে। আজ রবিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক ও মাদানীনগর এলাকায় পৃথকভাবে গাড়িগুলোতে আগুন দেওয়া হয়। এতে আবারও ওই সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়াও অ্যাম্বুলেন্স, সংবাদমাধ্যমের গাড়িসহ অর্ধশতাধিক যানবাহন ভাঙচুর করে তারা।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে মহাড়কে যানবাহন চলাচল শুরু করলে হরতাল সমর্থকরা চারটি যানবাহনে আগুন দেয়। এতে পুনরায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর আগেও হেফাজাত সমর্থকরা মহাসড়কের পাইনাদি এলাকায় ১০তলা কুয়েত প্লাজা ভবনের সামনে একটি বাস, একটি কাভার্ড ভ্যান ও একটি ট্রাকে আগুন দেয়।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার দিনভর সিদ্ধিরগঞ্জে সাইনবোর্ড থেকে শিমরাইল মোড় পর্যন্ত কয়েকটি পয়েন্টে থেমে থেমে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। এ সময় হরতালের সমর্থনকারীরা তিনটি ট্রাক, একটি মাইক্রোবাস ও তিনটি মিনিবাসে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ার শেল, রাবার বুলেট এবং ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

জানা যায়, ফজরের নামাজের পর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর পশ্চিম ঢাল, শিমরাইল চৌরাস্তা, ইউটার্ন, মাদানীনগর মাদরাসা, দশতলা ভবন এলাকা, মৌচাক, সানারপাড় ও সাইনবোর্ড এলাকায় হেফাজতের নেতাকর্মীদের অবস্থানের কারণে যান চলাচল বন্ধ যায়। সকাল ৮টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মুফতি বশির উল্লাহ শিমরাইল পয়েন্টে বক্তব্য রাখেন। পরবর্তীতে মহাসড়কে টায়ার, বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় হেফাজতকর্মীরা।


সকাল সাড়ে ১০টায় সাইনবোর্ড ও সানারপাড় এলাকায় মহাসড়ক থেকে পুলিশ হরতাল সমর্থকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। হরতাল সমর্থকরা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। দিনভর সাইনবোর্ড থেকে শিমরাইল মোড় পর্যন্ত কয়েকটি পয়েন্টে থেমে থেমে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় মো. শফিকুল ইসলাম (৬৭), শাকিল (৩২) ও শাহাদাত (৩৫) নামে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়। এ ছাড়াও পুলিশ সদস্য এমদাদসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। গুলিবিদ্ধ তিনজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, হেফাজতের নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই শিমরাইল মোড়, মৌচাক ও সাইনেবোর্ড এলাকায় অবস্থান নেয়। হরতালকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা ফাঁকা গুলি, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।

আপনার মতামত জানান