সম্মেলনে তরুন নেতৃত্ব চায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা

প্রকাশিত

দীর্ঘ ২৫ বছর পর সম্মেলন উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে সম্মেলনের চ’ড়ান্ত প্রস্তুতি বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর উপজেলার শেখ রাসেল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে ১৩ জন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ।

জানা যায়, দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের বিভক্তির কারনে প্রাণহীন হয়ে আছে তৃণমূল আওয়ামী লীগ। কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত আওয়ামী লীগের নেতারা নির্বাচনে দলীয় প্রতিকের প্রার্থীকে পরাজিত করার রাজনীতিতেই ব্যস্ত সময় পার করেছেন। একটি গ্রুপের সমর্থককে দলীয় মনোনয়ন দিলে বাকি গ্রুপ একজোট হয়ে কাজ করেছেন সে প্রার্থীকে পরাজিত করতে। নির্বাচন এলেই সোনারগাঁয়ের নেতারা বহুরূপ ধারন করেন। উপজেলাটি নৌকার শক্ত ঘাটি হলেও শুধুমাত্র ক্ষমতা দখলের প্রতিযেগীতায় এ আসনটি আওয়ামীলীগ নেতাদের হাতছাড়া হয়েছে অনেক আগেই। সংসদ নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের ফলাফল তা প্রমান করে। দলীয় প্রার্থীকে পরাজিত করতে কেউ কেউ দলের সিদ্ধান্তকে অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হতেও দ্বিধাবোধ করেননি। এখানে দলীয় কোন্দল কতটা প্রকট তা স্পষ্ট হয় উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক অ্যাড. সামসুল ইসলাম ভূঁইয়ার বাড়ির ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী ফলাফল দেখলেই। যেখানে আহবায়কের বংশগত ভোট প্রায় হাজারের উপরে সেখানে ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতিক পেয়েছে মাত্র ১২৫ ভোট।

তবে তৃণমূল নেতাদের দাবী দলকে চাঙ্গা করতে হলে তরুন, প্রতিশ্রুতিশীল ও ত্যাগী নেতারা দায়িত্ব পেলে ঝিমিয়ে পড়া দলে প্রাণ ফিরে আসবে। দলের দুঃসময়ে যারা অত্যাচার, নির্যাতন, মামলা, হামলা সহ্য করে দলকে বুকে আগলে রেখেছেন তাদেরকে নেতৃত্বে রাখলে দল গতিশীল হবে। অন্যথায় পূর্বের মতো পুতুল কমিটিতে পরিনত হবে। দলের দুঃসময়ে যারা বিএনপি জামাতের সঙ্গে আতাত করে চলেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে যারা কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন, যারা রাজনীতিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন, তারাই এখন সোনারগাঁয়ে আওয়ামীলীগের পদপদবীর আশায় কেন্দ্রে দৌড়ঝাপ করছেন।

জানা যায়, ১৯৯৭ সালের সম্মেলনে আবুল হাসনাতকে সভাপতি ও আবদুল হাই ভূঁইয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। ২০০৪ সালে আবুল হাসনাত এবং ২০১৪ সালে আবদুল হাই ভূঁইয়া মারা গেলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান মাহফুজুর রহমান কালাম। পরে ওই কমিটির আরও ২০ জনের মৃত্যু হয়। পরে ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে ১৭ বছর চলার পর ২০১৯ সালে কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুল ইসলাম ভূঁইয়াকে আহ্বায়ক ও আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের পরিক্ষীত সাবেক যুবলীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুমকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ৮ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আহ্বয়াক কমিটিকে প্রত্যাখ্যান ও অবাঞ্চিত ঘোষনা করে আন্দোলন নামেন বাদ পড়া নেতারা। পরে ২০২১ সালে আব্দুল্লাহ আল কায়সারকে প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক করে নতুন করে ২১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

প্রবীণ রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম ভূঁইয়ার দীর্ঘ ১৮ বছর নেতৃত্বে ঝিমিয়ে পড়া দলকে চাঙ্গা করতে কে পাচ্ছেন সভাপতির দায়িত্ব? প্রবীন নাকি তরুণ রাজনীতিবিদ সাবেক সাংসদ আব্দুল্লাহ আল কায়সার! এ আলোচনায় সগরম অলিগলির চায়ের দোকান। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তবে আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী অ্যাড. সামসুল ইসলাম ভ’ঁইয়া এমন মন্তব্য এখন ওপেন সিক্রেট। অনেক নেতা কর্মীদের অভিযোগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি থাকা কালীন সময়ে এবং আহবায়ক কমিটির আহবায়ক হওয়ার পর অ্যাড. সামসুল ইসলাম ভ’ঁইয়া জাতীয় পার্টির বি-টিম হিসেবে কাজ করেছেন এবং করছেন। তাই আজ প্রকাশ্যেই তার বিরুদ্ধে উপজেলার প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়েছে।

তবে নেতৃত্বের পরিবর্তন পক্ষে অধিকাংশ নেতা। তাদের মতামত বলিষ্ঠ নেতৃত্বের অধিকারি ১ম যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়সারকে সভাপতি ও আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুমকে সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব দিলেই দলে প্রাণের উচ্ছাস দেখা দিবে। আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথের পরিক্ষিত যুবলীগের বর্তমান সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু ও একযুগের সাবেক সফল সভাপতি, পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত গাজী মুজিবুর রহমানকেও যোগ্য স্থানে দেখতে চায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা ।

সোনারগাঁয়ের প্রবীন রাজনীতিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সামনেই জাতীয় নির্বাচন। ভৌগলিক কারনে সোনারগাঁয়েরর রাজনীতিবিদরা আন্দোলন সংগ্রামে দেশের ভীত কাঁপিয়ে দিতে পারেন তাই যোগ্য ও পরীক্ষিত এবং তরুন নেতাদের নেতৃত্বের সুযোগ না দিলে দলকে চরম মূল্য দিতে হবে।

আপনার মতামত জানান