আনন্দস্নান করতে এসে লাশ হলো দুই শিক্ষার্থী
সোনারগাঁ, প্রতিনিধি:
ঢাকার শনিরআখরা থেকে প্রকৃতি ও নদীর সানিধ্য নিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে গোসল করতে আসে সাতজন স্কুল পুড়ুয়া বন্ধু। সাতবন্ধু একসাথে মেঘনানদীতে নামার পরপরই দুই জন নদীতে তলিয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল দুজনকে মৃতাবস্থায় উদ্ধার করে। বুধবার দুপুরে উপজেলার মেঘনা নদীর পিরোজপুর ইউনিয়নের মেঘনা লঞ্চঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন- রাজধানীর কদমতলী থানার শনিরআখড়া এলাকার রাজু মিয়ার ছেলে মেরাজ হোসেন (১৫), সে বর্ণমালা স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং দনিয়া এলাকার ফারুক ভূঁইয়ার ছেলে কায়েস ভূঁইয়া (১৩), সে একে স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্র ও সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার দুপুরে স্কুল ফাঁকি দিয়ে সাত বন্ধু মিলে সোনারগাঁয়ের মেঘনা নদীর তীরে ঘুরতে আসে। পরে তারা নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে নদীর প্রবল স্রোতে মেরাজ ও কায়েস তলিয়ে যায়। তাদের সঙ্গে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা উদ্ধার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর বিকেলে প্রথমে মেরাজ হোসেনের এবং পরে কায়েস ভূঁইয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতদের স্বজনরা জানান, পরিবারের কাউকে না জানিয়ে তারা বন্ধুদের সঙ্গে সোনারগাঁয়ে বেড়াতে এসেছিল। পরে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তারা জানতে পারেন যে দুই শিক্ষার্থী নদীতে ডুবে গেছে। তাদের দাবি, নিহতদের কেউই সাঁতার জানত না।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের জোন-২ এর উপ-পরিচালক মো. ওসমান গনি বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টার পর দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহাবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকাজ শেষে মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


আপনার মতামত জানান