দলীয় সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাজনীতির মাঠে সরব এমপিপুত্র
বিশেষ প্রতিনিধি:
দল থেকে বহিষ্কার এবং পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের পরও থেমে নেই নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজিব। যুবদলের সাংগঠনিক নির্দেশ অমান্য করে তিনি প্রকাশ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, গত ২১ জুন রোববার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় সজিবকে আটক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশ। পরে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

এমপিপুত্র সজিব
চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে প্রায় ৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর ২ জুন সকালে আত্মীয়ের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয় ডিবি। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগগুলোর তদন্ত চলবে।
আটকের পরপরই নানা অনিয়মের সুস্পষ্ট অভিযোগে সজিবকে যুবদলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় কমিটি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহিষ্কৃতদের কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না এবং সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হলো।
বহিষ্কারের পর দলের পক্ষ থেকে সজিবের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার কড়া নির্দেশনা থাকলেও তিনি তা মানছেন না। স্থানীয় সূত্র জানায়, সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জে এমপি পুত্রের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও শিল্প এলাকায় উপস্থিতি বাড়িয়েছেন সজিব।
তার বিরুদ্ধে সংসদ সদস্য বাবার প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজি, দখল ও ঝুটের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। একটি বৃহৎ শিল্প গ্রুপের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং কোটি টাকার পুরোনো মালপত্র বিনামূল্যে নিতে চাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
সজিবকে আটকের পর নারায়ণগঞ্জের মানুষ ভেবেছিল সরকার কঠোর হচ্ছে। কিন্তু মুচলেকায় ছাড়া পাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির নারায়ণগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পরে মানুষ ভেবেছিল এ অবস্থার অবসান হবে। কিন্তু সোনারগাঁসহ বিভিন্ন স্থানে দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখলবাজির অভিযোগ প্রায়ই শোনা যাচ্ছে”।
যুবদলের জেলা আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান সাদেক জানান, কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করা হলেও সজিবের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হচ্ছে না।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নান সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি। ছেলের বিষয়ে দলের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
পুলিশ বলছে, সজিবের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই চলছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে ভুক্তভোগীরা মামলা করতে পারবেন।
বহিষ্কৃত হয়েও রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থাকায় সজিবের এই অবস্থানকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


আপনার মতামত জানান