হাসনাত আবদুল্লাহকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবী, মিথ্যা প্রোপাগান্ডার প্রতিবাদ

প্রকাশিত

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাপে এমপি, ছেলে করে চাঁদাবাজী, থানায় গিয়ে দেয় মুচলেকা, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা কর্মসূচিতে দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এমন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সোনারগাঁ থানা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বক্তব্যটি নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের মতামত প্রকাশ করে হাসনাত আব্দুল্লাহকে এমপিপুত্র সজিবের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবী জানিয়েছেন।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে সারাদেশব্যাপী পদযাত্রা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় পদযাত্রার আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি। জাতীয় যুবশক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক তুহিন মাহমুদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

এসময় বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ করে বলেন, “এখানে বাপ হচ্ছে এমপি আর তার ছেলে করে চাঁদাবাজি। থানায় গিয়ে দিতে হয় মুচলেকা। আমরা সারা দেশে দেখি গ্যাসের হাহাকার, আর সোনারগাঁয়ে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ে কোটি কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। চুনা কারখানাগুলো কোটি টাকার অবৈধ গ্যাস পোড়াচ্ছে। সোনারগাঁয়ের নদী ও খালগুলো রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে দখল হয়ে গেছে।”
তার এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সোনারগাঁ থানা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা প্রতিক্রিয়া জানান। অনেকে বক্তব্যটি প্রত্যাখ্যান করে এর তীব্র সমালোচনা করেন। কেউ কেউ হাসনাত আবদুল্লাহকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। আবার কয়েকজন নেতাকর্মী বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেন।

এদিকে, জুলাই শহীদ স্মরণসভায় ও হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল ১৬ জুলাই সোনারগাঁ উপজেলা কনফারেন্স কক্ষে “জুলাই শহীদ স্মরণসভায়”, হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপির বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোশারফ হোসেন এনসিপি নেতা হাসনাতের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ্’র বক্তব্যে সম্মুখ সারির জুলাই যোদ্ধা হিসেবে খ্যাত এমপি পুত্র সজিবকে এবং এমপি মহোদয়কে ছোট করা হয়েছে । ভবিষতে যেন এ ধরনের কর্মকান্ড থেকে হাসনাত আব্দুল্লাহ বিরত থাকেন এবং এ ধরনের বক্তব্য না দেন সে আহবান জানান। এছাড়াও বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল সহ সহযোগী সংগঠণের নেতাকর্মীরা হাসনাত আব্দুল্লাহ্’র বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেন।

জুলাই শহীদ স্মরণসভায় উপস্থিত হয়ে জাতীয় যুবশক্তির সিনিয়র সহসভাপতি তুহিন মাহমুদ বলেন, চাঁদাবাজীর বিষয়টি আমাদের নেতার বক্তব্যের অনেক আগেই সিরিজ আকারে প্রকাশিত হয়েছে। অন্যায় অপরাধ দেখলে আমরা প্রতিবাদ করবোই।

সনমান্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খোকন শিকদার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তার ফেসবুক ভেরিফাইড আইডিতে লিখেছেন, যারা আজ বড় বড় কথা বলছেন, তাদের নিজেদের অতীত কী, তা এদেশের মানুষ ভালো করেই জানে। ২০২৪ সালে গণভবনের মালামাল চুরির ছবি এবং ভিডিওর অকাট্য প্রমাণ আজ আমাদের হাতে রয়েছে। নিজেদের এই চুরির ইতিহাস আর অপকর্মের প্রমাণ লুকাতেই আজ তারা অন্যের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও কুৎসা রটনায় মেতে উঠেছে।

এদিকে আরিফুল ইসলাম নামের এক বিএনপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহকে কালা পাডা ও রাজমিস্ত্রির ছেলে বলে একটি পোষ্ট দিয়েছেন।

মামুন সরকার নামে একজন তাঁর জবাবে লিখেছেন, কোনটা মিথ্যা??
হেয়ত মুচলেকা দিয়েই বের হইছে৷ আর বিএনপি তাকে যুবদল থেকে ও বহিষ্কার করছে। বহিষ্কার করছে মানে সবই সত্যি।
সত্য কথা একটু তেতু লাগে এটা স্বাভাবিক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাতের সভাপতিত্বে জুলাই শহীদ স্মরণসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নান। ​অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম টিটু, পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাদিকুর রহমান সেন্টু, জামায়াত নেতা খোরশেদ আলম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সোনারগাঁ শাখার সভাপতি ফারুক আহমেদ মুন্সী, জাতীয় যুব শক্তির (এনসিপি) যুগ্ম আহবায়ক তুহিন মাহমুদ, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক নুরে ইয়াসিন নোবেল, কাউসার আহমেদ প্রমুখ।

 

আপনার মতামত জানান