ভেনেজুয়েলার সংকট থেকে বাংলাদেশের সম্ভাব্য শিক্ষা

প্রকাশিত

 

ড. শাহনুর হোসাইন:
স্পেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের ২১৫ বছর পর ভেনেজুয়েলা আজ এক চরম সংকটের মুখোমুখি। গতকাল দেশটির সার্বভৌমত্বের ওপর বড় ধরনের আঘাত এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তন তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর জন্য, বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা স্পষ্ট করেছে:

১. কর্তৃত্ববাদ ও একদলীয় শাসনের নেতিবাচক প্রভাব: হুগো শ্যাভেজের সময় থেকেই ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার যে সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল, তা বিরোধী দল ও মত দমনের মাধ্যমে দেশটিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ক্ষমতার ভারসাম্য (Checks and Balances) না থাকলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কখনও টেকসই হয় না।

২. চরমপন্থা পরিহার ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা: বিপ্লবের দোহাই দিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করলে সেগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে। বাম বা ডান—যেকোনো চরমপন্থী আদর্শ যখন প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, তখন রাষ্ট্র তার নিরপেক্ষতা হারায়। একটি মধ্যপন্থী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক কাঠামোই দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের পথ।

৩. কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা: বৈশ্বিক রাজনীতিতে আদর্শিক কারণে কোনো নির্দিষ্ট বলয়ে আবদ্ধ হয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়া আত্মঘাতী। বৃহৎ শক্তিবর্গ ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও একঘরে হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যার চরম মূল্য দিতে হয় সাধারণ জনগণকে।

৪. সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা: ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলো অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ না হওয়ায় তা গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। নির্বাচনের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব দুর্বল হয়ে পড়ে।

৫. অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে রাখা ও সুশাসন নিশ্চিতকরণ: বিশাল তেল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় অধিক নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি এবং ভ্রান্ত নীতির কারণে ভেনেজুয়েলা আজ ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতির কবলে। টেকসই উন্নয়নের জন্য অর্থনীতির ওপর রাষ্ট্রের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

লেখক : সাবেক শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আপনার মতামত জানান