এনসিপি’র আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান শহীদ আবু সাঈদের পরিবারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যসহ আহত যোদ্ধাদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও। এ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন দুঃখপ্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন। যার মাধ্যমে শহীদ আবু সাঈদের পরিবারকে আমন্ত্রণ জানানোর ক্ষেত্রে ‘অবহেলা’ করা হয়েছে এমন অভিযোগের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহীদ আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন তার ফেসবুক আইডিতে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের একটি ছবিসহ লেখাটি পোস্ট করেন।
ফেসবুকে দেওয়া পোস্টটিতে আবু হোসেন লিখেছেন, ‘মনে অনেক দুঃখ-ব্যথা নিয়ে পোস্ট করতে বাধ্য হলাম। সকল শহীদদের প্রতি সম্মান রেখে বলছি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে অন্য শহীদ ফ্যামিলিদের মাধ্যমে আমন্ত্রিত হয়েছি। তাদের কারও সময় হয়নি আমাদের ফ্যামিলিকে আমন্ত্রণ জানানোর এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার পর কাউকে খোঁজখবর নেয়নি অথচ অন্যান্য শহীদ ফ্যামিলিদের নিয়ে টানাটানি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলেন প্রথম শহীদ আবু সাঈদ। যার আত্মত্যাগের কারণে কোটা সংস্কার আন্দোলনে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। তৈরি হয় নতুন বাংলাদেশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কয়জন সমন্বয়ক শহীদ আবু সাঈদের ফ্যামিলির খোঁজ নিয়েছে। অথচ অনেক সাধারণ মানুষ এবং অনেক রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিবর্গ আমাদের খোঁজ নিয়েছে। এখনো এই অবস্থা ভবিষ্যৎতের কথা বাদ দিলাম। যাইহোক নতুন রাজনৈতিক দলের সফলতা কামনা করছি।’
এদিকে আবু হোসেনের এই পোস্টটিতে বিভিন্নজন নানা মন্তব্য করেছেন। রায়হান আহমেদ রিওন নামে একজন মন্তব্যে লিখেছেন, ‘যার শাহাদাতে এই আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রুপ নিয়েছে, যার ওছিলায় নতুন বাংলাদেশ, তার পরিবারকে এতো তাড়াতাড়ি ভুলে যাওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়, আমরা মেধাবী সন্তানকে হারিয়েছি। এটার মর্ম তারা কি করে বুঝবে।’
রুহুল আমিন নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘প্রথম থেকে ওনাদের কাছে আমরা এমনভাবে উপস্থাপিত হয়েছি যে শহীদ আবু সাঈদের পরিবারে কেউ যোগ্য লোক নেই। আর যারাও আছে তারাও তাদের কাছে করুণার পাত্র হিসেবে আছে। অথচ এই বিপ্লবে শহীদ আবু সাঈদসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এবং খুব কাছের লোকগুলো অংশগ্রহণ করেছিল। কিন্তু আমরা আমাদের অধিকারগুলো আদায় করে নিতে পারিনি। আমাদের উপযুক্ত মানুষগুলোকে উপযুক্ত জায়গায় বসাতে পারেনি।’
আবু হোসাইন নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘সব সময় অতিরিক্ত আশা ভালো না ভাই। যা পেয়েছেন তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকেন।’
ওই পোস্টে স্থানীয় সাংবাদিক মো. মাহমুদুল হাসান লিখেছেন, ‘বৈষম্য শব্দটা আজকাল একটু বিরক্তিই মনে হচ্ছে ছোট ভাই, বৈষম্য আদৌ কি বিদায় হয়েছে?’ আদর রহমান গোলজার নামে আরেক সাংবাদিক লিখেছেন, ‘দুঃখজনক’।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টটির ব্যাপারে জানতে আবু হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
তবে তার বড় ভাই রমজান আলীর সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি জানান, শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্য হিসেবে তাদের কাউকে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ঢাকায় থাকা তার ছোট ভাই আবু হোসেন অনুষ্ঠানে গিয়েছে কি না সেটা তিনি জানেন না।
উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের তরুণদের নেতৃত্বে গঠিত নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি আত্মপ্রকাশ করেছে। আর এ নতুন দলের আহ্বায়ক করা হয়েছে সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামকে, আর সদস্যসচিব হয়েছেন আখতার হোসেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নতুন রাজনৈতিক দল ও আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিবের নাম ঘোষণা করেন জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে নিহত শহীদ মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন রাব্বীর বোন মীম আক্তার।
আপনার মতামত জানান