চিবোচ্ছেন তো আমলকি

এইটুকুন ফল আমলকী। আকারে ছোট। ছোট বটে। দাঁত দিয়ে চিবুলে বড় উপকার। বিশেষ করে করোনাকালে এর চেয়ে সুলভ ও কার্যকরী পথ্য আর হয় না। সচেতন কিংবা অসচেতনভাবেও যদি প্রতিদিন অন্তত দুটি আমলকী মুখে পুড়ে দিতে পারেন, কাজের কাজটি হয়ে যাবে।
শরীর থেকে দূর হয়ে যাবে ভিটামিন সি’র ঘাটতি। আর পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন সি মানেই তো কোভিডের সঙ্গে ফাইট করার সক্ষমতা। হার্ড ইমিউনিটি। বর্তমানে হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের জন্য কত চেষ্টাই না করছে মানুষ। কয়েক পদের ওষুধ সেবন করছে প্রতিদিন। এ তালিকার শীর্ষে আছে বহুল পরিচিত ট্যাবলেট সিভিট। আর ফ্রিজ ভর্তি করে রাখা হচ্ছে মাল্টা দিয়ে। এ ফলের দামও বেশি। সে তুলনায় অনেক কম মূল্যে পাওয়া যায় আমলকী এবং এতে অন্য যে কোন ফলের তুলনায় ভিটামিন সি’র পরিমাণ বেশি থাকে।
কত বেশি? গবেষণা বলছে, কমলার চেয়ে ২০ গুণ বেশি। আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ। আমের চেয়ে ২৪ গুণ। কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি ভিটামিন সি থাকে আমলকীতে। এ কারণে আমলকীকে ভিটামিন সি’র রাজা বলা হয়। না, এ রাজাকে কুর্নিশ করতে হবে না। চিবিয়ে খান। এখনই সময়। মৌসুম চলছে আমলকীর। অলিতে গলিতে বিক্রি হচ্ছে। ঝুরি ভর্তি আমলকী। বেশ হৃষ্টপুষ্ট। কিনুন। খান। পুষ্টিবিদ সুস্মিতা খান জানাচ্ছেন, প্রতি ১শ’ গ্রাম আমলকীতে ৪৬৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি’ থাকে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির প্রতিদিন ৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি দরকার হয়। সে অনুযায়ী, মাঝারি আকারের দুটো আমলকী মুখে দিলেই সারাদিনের ভিটামিন সি’র অভাব দূর হয়ে যাবে। অবশ্য এর বাইরেও প্রয়োজনীয় অনেক উপাদান রয়েছে আমলকীতে।
পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের এক গবেষণা বলছে, প্রতিটি আমলকীতে ১৬.২ গ্রাম শর্করা, ০.৭ গ্রাম খনিজ পদার্থ, ৩.৪ গ্রাম আঁশ, ৭০ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি, ২২ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ৩.১ মিলিগ্রাম লৌহ ও ০.০৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি ওয়ান থাকে। আমলকীর ভেষজ গুণও অনেক। মুখে দিলে খাওয়ার রুচি বাড়ে। হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়। ভেষজ চিকিৎসকরা বলছেন, এ জন্য আধাচূর্ণ শুষ্ক ৫ থেকে ৬ গ্রাম ফল ১ কাপ পানিতে ঘণ্টাখানেক ভিজিয়ে রাখুন। পরে কচলিয়ে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ বার পানিটুকু পান করুন। তাতে হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি দূর হবে বমি সমস্যা। ভিটামিন সি’র অভাবজনিত রোগ সারাতেও কাজ করে আমলকী। পেটের পীড়া, সর্দি, কাশি ও রক্তশূন্যতা দেখা দিলেও এটি মহৌষধের কাজ করে। লিভার ও জন্ডিস রোগের পথ্য এটি। আমলকীর আরও কিছু উপকারের কথা মোটামুটি প্রমাণিত।
দেশীয় ওষুধ ও প্রসাধনী সামগ্রী তৈরিতে আমলকীর ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে। আমলকী বেটে একটু মাখন মিশিয়ে মাথায় দেয়া গেলে ভাল ঘুম হয়। কাঁচা আমলকীর রস চুলে লাগানোর উপকার সম্পর্কে বরাবরই সচেতন শহুরে মেয়েরা। প্রতিদিন এ রস মাথায় দিয়ে দুই/তিন ঘণ্টা রাখা গেলে এবং একমাস মাখলে চুলের গোড়া শক্ত হয়। চুল পড়া এবং তাড়াতাড়ি চুল পাকা বন্ধ হয়। আমলকীর চিরুনির মতো সাজানো পাতায়ও উপকার আছে। পাতার রস আমাশয় প্রতিষেধক। তবে আমলকীর আচার, জেলি ও মোরব্বার কথা না বললেই নয়। এ ফল দিয়ে তৈরি আচার, জেলি, মোরব্বা অত্যন্ত সুস্বাদু হয়ে থাকে। তবে বর্তমানের হিসাবে আমলকীর মূল কাজ করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য শরীরকে প্রস্তুত রাখা।
আপনার মতামত জানান