আঞ্চলিকতা হতে পারে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জয়-পরাজয়ের নিয়ামক
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্রপ্রার্থীদের প্রচারনায় জমে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ -৩ (সোনারগাঁ, সিদ্ধিরগঞ্জ) আসন। শেষ সময়ে নির্বাচনী প্রচারণা আর গণসংযোগে সরগরম এ আসনের ভোটের মাঠের হিসাব পাল্টে দিতে পারে আঞ্চলিক প্রভাব। এমন ধারনা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে উৎসবমুখর পরিবেশে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ছিল প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ চলে গ্রাম-গঞ্জ, বাজার, হাট আর পাড়া-মহল্লায়। উঠান বৈঠক, পথসভা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা, সব মিলিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা। এ আসনে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটারের ৩০ শতাংশ জেনজি ভোটাররাও হতে পারেন জয়-পরাজয়ের টার্নিং পয়েন্ট। শেষ মুহুর্তে আওয়ামী ভোটারদের মাঠে নামাতে চলছে নানা কৌশল।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির দুই স্বতন্ত্রপ্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম ও নারায়ণগঞ্জ -৪ আসনের সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন লাগাম টেনে ধরতে পারেন বিএনপি মনোনীত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নানের বিজয়ে। ধানের শীষের নিশ্চিত বিজয়ে প্রধান বাধা এই দুই স্বতন্ত্রপ্রার্থী। জোটগত টানাপোড়ন পেরিয়ে অবশেষে ফুরফুরে মেজাজে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত জামায়াত প্রার্থী ড. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া। প্রচার প্রচারনায় পিছিয়ে নেই ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী গোলাম মসিহর হাত পাখাও।
তবে শেষ সময়ে আঞ্চলিকতাও ঘুরিয়ে দিতে পারে জয়পরাজয়ের হিসাব। এ আসনে সোনারগাঁ উপজেলার ৩ লাখ ৬০ হাজার ভোট নিয়ে দক্ষিণাঞ্চল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩ জন হ্যাভিওয়েট নেতা। এদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মো: রেজাউল করিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সাবেক রাষ্টদূত গোলাম মসিহ, অন্যদিকে উত্তরাঞ্চল থেকে ১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী প্রিন্সিপাল ড. মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া একাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপর দিতে ২ লাখ ৩০ হাজার ভোট নিয়ে লড়ছেন সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। এছাড়া গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী ওয়াহিদুর রহমান মিল্কি, জনতার দলের প্রার্থী আব্দুল করিম মুন্সি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সি ও এবি পার্টির আরিফুল ইসলাম নির্বাচনে তেমন প্রভাব ফেলতে পারবেন না বলে স্থানীয়দের ধারনা।
তথ্যমতে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৮৩ হাজার ৯৫২ জন। এর মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৯৬ হাজার ৭৪৬ জন মহিলা ভোটার রয়েছে দুই লাখ ৮৭ হাজার ২০৪ জন। দুইজন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদিও জাতীয় নির্বাচন তবুও এ আসনটিতে আঞ্চলিক ভোটার নিয়ে এগিয়ে আছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াসউদ্দিন এবং সোনারগাঁয়ের উত্তরাঞ্চলের একমাত্র প্রার্থী জামায়াতের ড. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের শম্ভুপুরা ইউনিয়ন থেকে অধ্যাপক রেজাউল করিম, পিরোজপুর ইউনিয়ন থেকে আজহারুল ইসলাম মান্নান, সোনারগাঁ পৌরসভা থেকে গোলাম মসিহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। স্বাধীনতার পর থেকে সোনারগাঁয়ের নেতৃত্বে ছিলেন দক্ষিণাঞ্চলের শম্ভুপুরা ও মোগরাপাড়া ইউনিয়ন। এ দুটি ইউনিয়ন থেকে সর্বাধিকবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। শম্ভুপুরা থেকে বিএনপির অধ্যাপক রেজাউল করিম ৪ বার, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন থেকে আওয়ামীলীগের সাজেদ আলী মোক্তার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোবারক হোসেন ১ বার করে, কায়সার হাসনাত ২ বার এবং জাতীয় পার্টির লিয়াকত হোসেন খোকা ২ বার এমপি নির্বাচিত হলেও উত্তরাঞ্চলের কোন নেতাই সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাননি। এবারই প্রথম উত্তরাঞ্চলের ড. ইকবাল জামায়াত থেকে মনোনীত হাওয়ায় এ সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নন উত্তরাঞ্চলের ভোটাররা। তাই সোনারগাঁয়ের উত্তরাঞ্চল ও শীতলক্ষ্যার ওপারের মানুষ চাচ্ছে তাদের নিজ এলাকার সন্তানকে এমপি হিসেবে নির্বাচিত করতে। এছাড়া বিভিন্ন সভা সেমিনারে শীতলক্ষ্যার ওপারের মানুষ সন্ত্রাসী বলায় এবারের নির্বাচনে প্রতিকের বাইরে ব্যক্তি গিয়াসউদ্দিনকে ভোট দিতে একাট্টা তারা। অন্যদিকে পিছিয়ে নেই ধানের শীষ প্রতিকের আজহারুল ইসলাম মান্নান।


আপনার মতামত জানান