মেঘনা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু তুলছেন রেজাউল পন্থী বিএনপি নেতারা

প্রকাশিত

সোনারগাঁ প্রতিনিধি:
আওয়ামী সরকারের পতনের পর থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম পন্থী ইয়াসিন নোবেল সহ বিএনপির স্থানীয় কিছু নেতা-কর্মী এবং আওয়ামীলীগ থেকে বিএনপি যোগদান করা নেতারা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা নদীতে ড্রেজার (খননযন্ত্র) বসিয়ে মেঘনানদীর বৈদ্যের বাজার এলাকা থেকে অবাধে বালু তোলা শুরু করেছেন। ১২ তারিখে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষনার পর থেকে নবনির্বাচিত এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে বালু উত্তোলন করছেন তারা।

জানা যায়, স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতা-কর্মী অবৈধভাবে এসব ড্রেজার বসিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। অবাধে বালু তোলার কারণে নদীভাঙনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষনার পর থেকে অধ্যাপক রেজাউল করিম পন্থী বিএনপি নেতা ইয়াসিন নোবেল, আওয়ামী নেতা ও বৈদ্যের বাজার ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে উপজেলার বৈদ্যের বাজার এলাকায় মেঘনা নদীর তীর হতে দিনরাত বালু তোলা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, এ গ্রুপটা বালু সন্ত্রাস হিসেবে পরিচিত। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তখন তারা সে দলে যোগদান করে অবৈধ বালু উত্তোলন সহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষনার পর থেকেই তারা নব নির্বাচিত এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নানের নাম ভাঙ্গিয়ে আমান সিমের পাশ থেকে বালু উত্তোলন করছে। দিনে ও রাতে ১০-১২ টি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে মেঘনাতীরের অনেক গ্রাম ভাঙনের মুখে রয়েছে। ইতিমধ্যে নদীর তলদেশের মাটি সরে গিয়ে উপজেলার খাসেরচর, ভুরভুরিয়া, ভাটিবন্দর ও সুলতান নগর গ্রাম নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। মালিগাঁও, হাড়িয়া, গোবিন্দি হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া সোনামুইসহ কয়েকটি গ্রাম এবং সেই সাথে মেঘনার তীরে অবস্থিত আমান ইকোনমিক জোন বর্তমানে ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে।

বালু উত্তোলনকারীরা বর্তমানে নির্বাচিত এমপির লোক হওয়ায় তাদের দাপটে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। জানা যায়, এসব প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে লাখ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করে প্রতিদিন গড়ে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সোনাময়ী মৌজায় মেঘনা নদীতে অন্তত ১০-১৫টি শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে এলাকায় ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে। বালু উত্তোলন বন্ধ করা না গেলে কোনোভাবেই ভাঙন রোধ করা যাবে না।

জানতে চাইলে বৈদ্যের বাজার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোশারফ হোসেন বলেন, ‘নদী থেকে বালু তোলার বিষয়টি আমরাও শুনেছি। বিএনপি কখনোই দলের নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের অপকর্মকে প্রশ্রয় দেয় না। আমরা স্থানীয় প্রশাসনকেও অনুরোধ জানিয়েছি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে।’

বিএনপি নেতা ইয়াসিন নোবেল বলেন, আমানসিমকম্পানীর জাহাজ ভিড়ানোর জন্য ড্রেজিং এর অনুমোদন দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। এ কাজে আমি জড়িত নই।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত মেঘনাঘাট নদী বন্দর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন (BIWTA) এর উপ প্রকৌশলী এস, এম আলী রেজা বলেন, আমান সিম কম্পানীর জেটির জন্য কম্পানীকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বালু বিক্রির অনুমোদন নেই। এই অপরাধমূলক কর্মকান্ডের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমান সিম কম্পানীর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার জামান হোসাইন মুঠোফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

 

আপনার মতামত জানান