সোনারগাঁয়ে মাদক ব্যবসায়ী ও গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১৫

প্রকাশিত

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও গ্রামের মানুষের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় এলাকাটিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ ঘটনায় টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পিরোজপুর ইউনিয়নের পাঁচানি, খাসেরগাঁও ও ছোট কোরবানপুর গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী ও সাধারন বাসিন্দাদের মধ্যে এই সংঘর্ষ চলে।

সংঘাত চলাকালে উভয় পক্ষ দা, বটি, টেঁটা, বল্লম, লোহার রড ও ইটপাটকেল ব্যবহার করে। আহতদের উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পিরোজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও শামীম ওসমানের বিশ্বস্ত ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিক খাসেরগাঁও গ্রামের মনির হোসেন ও ছোট কোরবানপুর গ্রামের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রাসেল মিয়ার মাদক ব্যবসায় প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলায় পাঁচানি গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা হামিদুল ইসলাম হামিদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এই দ্বন্দ্বের জেরে বুধবার বড় ধরনের সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।

সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ পাঁচানি গ্রামের বজলু মিয়া অভিযোগ করেন, ‘খাসেরগাঁওয়ের মনির মেম্বার ও ছোট কোরবানপুরের রাসেল মিয়া এলাকায় মাদক ব্যবসা ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। আমরা এর প্রতিবাদ করায় দুপুরে প্রায় তিন শতাধিক লোকজন নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ আমাদের গ্রামে হামলা চালায়। বাড়িঘর ও দোকানপাটে লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। আমাদের ১০-১২ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। এ সময় মসজিদে আশ্রয় নিলে সেখানেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে মসজিদের জানালার কাঁচ ভাঙচুর করে।

অন্যদিকে ছোট কোরবানপুর গ্রামের বাসিন্দা রাসেল মিয়া বলেন, সকালে তাঁদের ছেলেরা নদীতে গেলে হামিদ মিয়ার লোকজন তাদের মারধর করে। পরে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই দুই গ্রুপের মধ্যে চলে আসা বিরোধ মীমাংসা করতে কয়েক দফা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকটি দোকান ও বাড়িঘর ভাঙচুরের চিহ্ন দেখেছি।’

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিবুল্লাহ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী রয়েছে। তবে কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

আপনার মতামত জানান