ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘর্ষে সাবেক ইউপি সদস্য নিহত

প্রকাশিত

 

বিশেষ প্রতিনিধি:
বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রতিপক্ষের লোকদের আমন্ত্রণ জানানোকে কেন্দ্র করে বচসার জেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে সাবেক এক ইউপি সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার ধরমন্ডল গ্রামের মসজিদবাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনূর ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত জিতু মিয়া (৫৫) ধরমন্ডল গ্রামের আলাই মিয়ার ছেলে। তিনি ধরমন্ডল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জিতু মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের রমজান মেম্বারের বিরোধ চলছিল। এর আগেও বিভিন্ন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সোমবার বিকেলে ধরমন্ডল গ্রামের মসজিদবাজার এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেন জিতু মিয়া। এ সময় তিনি কেন সেখানে উপস্থিত হয়েছেন এবং প্রতিপক্ষের লোকদের কেন আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে—এ নিয়ে রমজান মিয়া গোষ্ঠীর লোকজন আপত্তি তোলে। প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হলেও তা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়।

একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জিতু মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী জেলা হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সংঘর্ষে আহত ১৭ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

জিতু মিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ধরমন্ডল গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, “বিয়ের দাওয়াতকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জিতু মিয়া নামে একজন নিহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

আপনার মতামত জানান